শীতকাল আসার আগেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় দেখা মিলছে পরিযায়ী পাখির। এরই মধ্যে খালবিল ও জলাশয় মুখরিত হয়ে উঠেছে পাখির কলরবে।
নিরাপদ আবাস ও খাদ্যের প্রাচুর্য থাকায় এবার পাখির আগমন বেশি, বলছেন স্থানীয়রা। পাখির অভয়ারণ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
চলনবিল ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এখন পাখির কলরব। জলাশয়ে দেখা মিলছে বক, বালিহাঁস, রাতচরা, নীলশির, কোড়া, বড় সরালি, ছোট সরালিসহ নানা ধরনের পাখি। গাছের ডালে গড়ে তুলেছে আবাস।
বেলকুচি, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে পাখির আগমন ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, অনুকূল পরিবেশ হওয়ায় দিন দিন পাখির উপস্থিতি বাড়ছে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘সারা উপজেলার প্রত্যেকটি গাছে; লাখ লাখ সাদা বক ও শামুকখোর পাখি আছে।’
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এ পাশেই নদী। নদী থেকে ওদের খাবার আহরণ করা খুবই সহজ হয়। এজন্য আমাদের এখানে পর্যপ্ত পাখি।’
প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিযায়ী পাখিদের রোগবালাই নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রাণীসম্পদ বিভাগ।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ‘অতিথি পাখিগুলো কিছু অসুখ (রোগ) বহন করে। যদি সম্ভব হয়, নির্দিষ্ট কিছু অসুখ হলে চিকিৎসার জন্য যদি জনগণ যদি পাখি নিয়ে আসে আমরা সেটা উপজেলা অফিসগুলোতে দেখে দেই। এবং পরামর্শ দিয়ে থাকি।’
এদিকে, পাখি শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন।
সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজিয়া পারভীন মিষ্টি বলেন, ‘সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যেন অতিথি পাখি শিকার না করে। এরপরও যদি কেউ নিধন করে এরকম খবর আমরা পাই, সাথে সাথে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সেটা দেখার চেষ্টা করি।’
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছি, অতিথি পাখি কেউ যেন নিধন করতে না পারে। এ বিষয়ে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে।’
পাখি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সারা দেশেই পরিযায়ী পাখির আগমন বাড়বে বলছেন তারা।