চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বেড়েছে আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদের চোরাচালান, শঙ্কায় ভোটার-প্রার্থীরা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের চোরাচালান বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে। ভারত থেকে আসা অস্ত্রের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। অস্ত্রের চোরাচালান রোধ ও পাচার হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

গত ৭ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তের একটি আমবাগান থেকে দুটি বিদেশি ওয়ান শুটারগান ও নয় রাউন্ড গুলি জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর ১৫ দিন আগে একই উপজেলার রাঘববাটি থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চারটি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর জব্দ করা হয় চারটি বিদেশি পিস্তল, ২৪ রাউন্ড গুলি ও ছয়টি ম্যাগাজিন।

বিজিবির তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪১ রাউন্ড গুলি ও সাড়ে নয় কেজি বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্রের চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে তাঁদের দাবি, ভারত থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকের খুব সামান্যই জব্দ করতে পারছে বিজিবি।

অস্ত্রের চোরাচালান বাড়ায় প্রার্থীরাও নানা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল জানান, অস্ত্র কারা কিনছেন, কোথা থেকে কিনছেন কেনই বা কিনছেন এসব তথ্য খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অপরাধী যে দলেরই হোক পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ জানান, অবৈধ অস্ত্র শুধু নির্বাচন নয় সমগ্র দেশের জন্যই ক্ষতিকর। আমি মনে করি, দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার সীমান্তে দায়িত্বে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন। কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি জব্দ করা অস্ত্রের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নাইন এমএম পিস্তল।

রাজশাহী বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, ‘অস্ত্র চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে। যে কোনো গোপন সংবাদে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করি। এভাবেই আমরা আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাব।’