রাজশাহী সদরে এবার ভোটের লড়াই জমবে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। তার বিপরীতে আছেন দাঁড়িপাল্লার ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। অন্য দলের প্রার্থীরা থাকলেও, তাদের প্রচারণা কিছুটা কম। এবার প্রার্থীদের মনভোলানো প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হতে রাজি নন ভোটাররা, যাচাই করবেন নেতৃত্বের সক্ষমতা।
প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মিছিল আর শোডাউনে ভোট-উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে রাজশাহী নগরীতে। পাড়া-মহল্লা থেকে নগরীর অলিগলি ছেয়ে গেছে ব্যানারে, সাথে চলছে মাইকে প্রচারণা।
সদর আসনে এবার লড়াইটা হবে মূলত বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। রাজশাহীতে বিএনপি'র পরচিত মুখ মিজানুর রহমান মিনু ব্যস্ত গণসংযোগে। পাশাপাশি ভোটের মাঠে সরব আছেন জামায়াতের প্রার্থী ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও। ভোট টানতে তাঁরা তুলে ধরছেন আগামীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা আর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নিজ নিজ দলের পরিকল্পনা। অন্যদিকে প্রচারণা কিছুটা কম থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত এবি পার্টির মুহাম্মদ সাঈদ নোমান।
সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, '১৭ বছরে যারা দেশকে নিঃশেষ করেছে, সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে আমরা রাজশাহীকে একটি সুন্দর, বসবাস উপযোগী, নিরাপদ মহানগরী, পরিচ্ছন্ন মহানগরী, সবুজ মহানগরী, (হিসেবে গড়ে তুলব) এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করব।'
ভোটের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, 'ইনশাআল্লাহ্ পাশের ব্যাপারে আমরা কনফিডেন্ট। আলহামদুলিল্লাহ্ খুব ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি। আমরা ব্যাপক জনসমর্থন লক্ষ্য করছি। এবং জামায়াতকে বা দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার জন্য জনগন খুব উন্মুখ হয়ে আছে।'
তবে ভোটের সমীকরণ এবার কিছুটা ভিন্ন। ভোটাররা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ এখন নতুন শুরুর পথে। মনভোলানো প্রতিশ্রুতির পুরনো কায়দায় ভুলতে নারাজ তারা। প্রার্থীর সক্ষমতা দেখেই দেবেন ভোট।
স্থানীয় এক ভোটার বলেন, 'আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। বা আমাদের এই যে অনেক সময় অনেক সমস্যা হয়, সে সমস্যাগুলো দেখাশোনা করবে।'
আরেক জন জানান, 'দেশে নিরাপত্তা, বেকারদের নিয়ে ভাবনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, এই বিষয়গুলোকে যেই দল অগ্রাধিকার দেবে, আমরা এমনই প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে চাই সামনের নির্বাচনে।'
সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৩ জন। সহিংসতা না হলে, ভোটের দিনও উৎসবের আমেজ থাকবে বলে মনে করেন ভোটাররা। তবে শেষ পর্যন্ত সদর আসনের ভোটাররা কাকে বেছে নিবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।