রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মিলেছে মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। গরমিল ধরা পড়েছে অর্ধকোটি টাকার। হিসাব নেই ১১১ টন বিনামূল্যে বিতরণের চালের। এসব নিয়ে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা কোনো কথা বলতে রাজি নন। আর জেলা প্রশাসক বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি জানা নেই তাঁর।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণেও অনিয়ম হয়েছে। হিসাব মিলছে না ১১১ টন চালের।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে, ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৭৯ টাকা এবং ১১১ মেট্রিক টন চালের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গিয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, পবা, চারঘাট, গোদাগাড়ী আর পুঠিয়ায় টিআর প্রকল্পে কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা তোলা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিজিএফ ও জিআর চাল বিতরণের ভাউচার নেই। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।
গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে রাজশাহী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার আব্দুল হাই সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়। এটি নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।’
এদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অবহিত নন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না। বিষয়টি ভালভাবে জেনে বুঝে তারপর আমি মন্তব্য করব।’
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এক চিঠিতে এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে চিঠিতে।