নাটোরের সিংড়ায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিএডিসির সেচ প্রকল্প থাকলেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার সেচযন্ত্র স্থাপন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অবৈধ এসব সেচযন্ত্রের মাধ্যমে কম খরচে সেচ দিচ্ছেন কৃষকেরা। এর জেরে বন্ধ হতে বসেছে সরকারি প্রকল্পের সেচকাজ। উপজেলা সেচ কমিটির কাছে আবেদন করেও হয়নি সুরাহা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় চলতি বছর ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। জমিতে সেচের জন্য রয়েছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিএডিসির ১১৭টি গভীর নলকূপ এবং ৭৩টি এলএলপি নলকূপ রয়েছে।
এর পরও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার সেচ যন্ত্র বসিয়েছে অসাধু কিছু চাষি। আবাসিকের বিদ্যুৎ সংযোগের তার টেনে চালানো হচ্ছে অবৈধ মটর। কৃষকদের অজুহাত, সরকারিভাবে স্থাপিত গভীর নলকূপ থেকে ক্রমানুসারে সময়মত সেচ দেওয়া যায় না।
প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় কৃষি জমিতে বসছে অবৈধ সেচ পাম্প। নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে সরকারি সেচ পাম্পগুলো। পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বলছেন, অবৈধ সেচ পাম্প বন্ধে প্রচারণার পাশাপাশি জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ চলছে।
ভুক্তভোগী এক কৃষক জানান, পূর্বে ২০০ বিঘা জমিতে সেচ দিতেন তিনি। বর্তমানে অবৈধ সংযোগে সেচ দেওয়ার কারণে মাত্র ৫০ বিঘা জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে জমিতে পানি দিতে এখন লোকসান হচ্ছে। এখন যে আয় হয় এটি দিয়ে কর্মচারীদের বেতন বা বিদ্যুৎ বিল কোনোটাই দেওয়া যাচ্ছে না।
ক্ষুদ্র কৃষকেরা জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে অনেকেই জমিতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ দিচ্ছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সিংড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রচারপত্র বিলি করা আছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এখানে নানা সময় অভিযান চালানো হয়, জরিমানা করা হয়।’
অবৈধ সেচযন্ত্র বন্ধে উপজেলা সেচ কমিটি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বিএডিসির কর্মকর্তা। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
নাটোর সিংড়া জোনের বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) মানিক রতন বলেন, আবাসিক সংযোগ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এ সমস্যা নিরসনে উপজেলা পর্যায় থেকে সব সময়ই পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে উদ্যোগ নিতে বলা হয়।
নাটোরের সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে বক্তব্য এই যে, এ রকম যদি কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসে সে ব্যাপারে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’