ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত নওগাঁর ৪ গ্রামে

টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই মৎস্যজীবী। শিব নদীকে ঘিরেই চলতো তাদের জীবন-সংসার। কিন্তু বছরের একটা সময় নদীতে পানি না থাকায় জীবিকার তাগিদে ছুটে যেতেন বেগমগঞ্জ উপজেলাসহ দূর-দূরান্তে। ব্যবসা করতেন চুড়ি, ফিতা, দুলসহ নানা পণ্যের। নওগাঁর মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার ৪ গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে।
  
শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব পাশে রাজেন্দ্রপুর গ্রাম। সেই গ্রামেরই মোহাম্মদ বাদশা ও বারিখসহ ১৫ জন জীবিকার তাগিদে গিয়েছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলায়। চুড়ি, ফিতা, দুলসহ নানা সামগ্রী বিক্রি করতে। বাড়ি ফেরার আগে কথা বলেছিলেন পরিবারের সঙ্গেও। 

স্বজনদের আহাজারি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

কিন্তু টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে রডের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাদশা, বারিখসহ আরও অনেকেই।

নওগাঁর মান্দার পাইকারি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই ও ভাতিজা মারা গেছে। এই শোক আমরা কেমন করে সইব? বুকের ভেতর খুব কষ্ট হচ্ছে।’

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র রাজেন্দ্র ভাটি গ্রামেই মারা গেছেন ১১ জন। এই দুর্ঘটনার খবরে পুরো গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া 

নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

নওগাঁর মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার জাহান সাথী বলেন, ‘মরদেহ দাফন–কাফনের যে খরচ তা আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে বহন করব। এছাড়া পরিবারগুলোকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

২০১৭ সালে একই ধরনের দুর্ঘটনায় রংপুরের পীরগঞ্জে ঈদের আগে মারা যায় ১৭ জন।