বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধ: ব্যর্থ হলো মেহেরপুর সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন (জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার) চেষ্টা আবারও নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। শনিবার ভোরে মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে এই পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। তবে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন খোলা আকাশের নিচে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশের তিনটি জেলার সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আটকে পড়া ৭৮ জন নাগরিককে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।

শনিবার ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থান ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তেঁতুলবাড়ীয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান জানান, সীমান্তের ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছ দিয়ে ভারতের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার বেড় রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়ায় শিশুসহ ৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারীকে পুশ-ইন করার চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবি ও গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) অবস্থান নিয়েছেন। গত দুদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এই সংকট নিরসনে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।