৪৫ বছর বয়সে কাঠমিস্ত্রি নাসিমুলের এসএসসি জয়

কিছু আক্ষেপ আর অদম্য ইচ্ছা যে মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, যেন তারই উদাহরণ নাসিমুল হক। ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সুরানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় কাঠমিস্ত্রি নাসিমুল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভোকেশনাল বিভাগে জিপিএ-৪.৬২ পেয়ে পাস করেছেন। 
 
পড়াশোনার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ছিল নাসিমুলের। যদিও ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর আর পড়াশোনা এগোইনি। তবে তখন থেকেই মনের ভেতর রয়ে যায় আক্ষেপ। এ আক্ষেপ আরও তীব্র হয় ২০২০ সালের পর। 

এলাকায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত নাসিমুল হক শুধু সার্টিফিকেটের অভাবে হতে পারেননি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। তখনই পণ করেন যত কষ্টই হোক আবারও শুরু করবেন পড়াশোনা, অর্জন করবেন সার্টিফিকেট। এরপরই রাজশাহীর কমার্শিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোকেশনাল শাখায় ভর্তি হন এবং এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেন। 

নাসিমুলের এ অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তার এলাকার মানুষ ও সহকর্মীরাও। তারা বলছেন- নাসিমুলের শিক্ষিত হওয়ার সংগ্রাম ও অবশেষের সফলতা তাদের মুগ্ধ করেছে। নাসিমুলের আগামীর দিনগুলোর জন্য শুভ কামনার পাশাপাশি তাকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন অনেকে। আর তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন- অভাব অনটনের সংসারে দিন রাত পরিশ্রম করতে হয় নাসিমুলকে। সারাদিন কাজ করার পর আবারও পড়াশোনা করে পরীক্ষার পাস করাটা সহজ ছিল না। এরপরও তিনি পড়াশোনা করে যে কৃতিত্ব অর্জন করেছে, তার পড়াশোনার পথ যেন আর বন্ধ হয়ে না যায়।

গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিন আলী বলেন,  নাসিমুলের অর্জন তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণীত করবে। ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে তিনি সত্যিই প্রমাণ করেছেন, বয়স একটা সংখ্যামাত্র। ঐকান্তিক চেষ্টা থাকলে যে কোন বয়সেই শিক্ষা অর্জন করা যায়।
   
নাসিমুল জানিয়েছেন, এসএসসি পাসের পড় পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চান।