সৌদি আরবের রিয়াদে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত নাটোরের সাব্বির ও শামীমের পরিবার শোকে কাতর। আর দুঃসহ এই শোকের মাঝেই দুশ্চিন্তা পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে, দারিদ্র ঘোচাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুতে এখন দিশেহারা পরিবার। প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।
ভাগ্য বদলানোর আশায় তিন বছর আগে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি জমান নাটোরের সাব্বির। সেখানে কাজ করতেন সোফা তৈরির কারখানায়। সেই আয় থেকেই দেনা পরিশোধ করছিলেন সাব্বির। এখনো প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে তার। কিভাবে সেই ঋণের টাকা শোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তার বাবা-মা।
নিহত সাব্বিরের বাবা জানান, আমার ছেলে ঋণ করে বিদেশ গিয়েছিল, যে বাপ-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাব্বিরের মা বলেন, 'আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল। আশা ছিল আমার ছেলে বাড়িতে আসবে...।
সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে ধার-দেনা করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন নলডাঙ্গার শামীম হোসেন। ৯ আগস্ট শামীমের পরিবার জানতে পারেন, আগুনে দগ্ধ হয়ে শামীম মারা যান। মাত্র এক মাস আগে জন্ম নেওয়া সন্তানকেও আর দেখতে পেলেন না।
নিহত শামীমের স্ত্রী বলেন, 'আমার কোনো সম্পদ নাই যে, সেটা দিয়ে ঋণ শোধ করব। আমার সন্তানকে মানুষ করব।' তার বাবা জানান, নিজেদের সামান্য জমিটুকু বিক্রি করে এবং আরও ৫-৬ লাখ টাকা ঋণ করে শামীম সৌদি আরবে যান।
উল্লেখ্য, আট মাস আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আসকে রিয়াদে গিয়েছিলেন শামীম হোসেন।
রিয়াদে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া বংলাদেশিদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। খাজুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন বলেন, আমার সাধ্যের মধ্যে এই পরিবারগুলোকে যতটুকু করা সম্ভব, আমার দিক থেকে কোনো কমতি থাকবে না। নিহতদের লাশ যেন অতি দ্রুততার ভিত্তিতে সরকারি প্রক্রিয়ায় দেশে এনে তাদের বাবা-মায়ের কাছে, পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লেগে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।