নাটোর পৌর এলাকায় হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নাটোর জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডেও রোগীদের চাপ বেড়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আক্রান্তদের বড় একটি অংশ নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী রাজু আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ, মিতু বেগম, সুমাইয়া খাতুন ও তাদের স্বজন নুর মোহাম্মদ জানান, পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পান করার পর থেকেই তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন।
তারা জানান, গতকাল হঠাৎ পেটের সমস্যা ও বমি শুরু হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে এসে তারা দেখতে পান, শহরের বিভিন্ন এলাকার আরও অনেক মানুষ একই ধরনের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
নাটোর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ শাহিদা খাতুন বলেন, হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন মজুত রয়েছে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, প্রতিবছরই এ সময়ে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এবারও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫০০ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ১০০ রোগী হাসপাতালে এসেছেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুতসহ পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ঋতু পরিবর্তন ও অনিরাপদ পানি পান করার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে। এ কারণে সবাইকে পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।