মাটি খুঁড়লেই স্বর্ণ, গুজবে ঘুম নেই মানুষের!

স্বর্ণ পেলে অল্প সময়ে ভাগ্য বদলে যাবে। তাই হাজারো মানুষ ইটভাটার জমানো মাটির স্তূপ খুঁড়ছেন স্বর্ণ পাওয়ার আশায়। দিনের চেয়ে রাতে সহজেই মাটিতে স্বর্ণ পাওয়া যায়– এমন খবরে রাতের আঁধারে টর্চ লাইট আর মাটি খুঁড়ার যন্ত্র নিয়ে ইটভাটাটিতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার কাতিহারের একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটেছে। একটি মন্দিরের পাশ থেকে কেটে আনা মাটি ইটভাটায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বাস্তবে প্রথমদিকে দুই–একজন স্বর্ণ পেলেও বাকিরা ফিরছেন খালি হাতে। এ কারণে এটিকে গুজব বলছেন খালি হাতে ফিরে আসা মানুষেরা।

শনিবার সকালে আরবিবি ইটভাটা নামের ওই ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ভাটাটির ঠিক পশ্চিম পাশে একটি মাটির স্তূপে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জটলা। সে জটলার পাশেই ছোট শাবল, কোদাল, বসিলা দিয়ে আস্তে আস্তে মাটি খনন করে বাছাই করছে কিশোর–কিশোরী ও যুবকরাসহ বিভিন্ন বয়সী নারী–পুরুষ।

স্থানীয়রা জানায়, আরবিবি ইটভাটায় গত কয়েকদিন ধরে চলছে মাটি খনন প্রতিযোগিতা। গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারী–পুরুষ বাড়ি থেকে কোদাল, বসিলা নিয়ে ওই ভাটায় আসছেন। তাঁরা ভাটার ইট তৈরির জন্য স্তূপ করে রাখা মাটির ঢিবিতে চালাচ্ছেন ইচ্ছেমতো খনন প্রতিযোগিতা। এদের মধ্যে শ্রমিক শ্রেণির মানুষই বেশি। স্বর্ণ পেলে নিজেদের ভাগ্য বদল হবে– এই আশায় কেউ বসে নেই। গভীর রাতেও মানুষের ভিড় দেখা যায় সেই ইটভাটায়।

মাটি খননের এই কাণ্ড দেখতে আসা ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জের জনগাঁও এলাকার বেলাল বলেন, ‘লোকজন দিন ও রাতের বেলায় আসছে মাটি খুঁড়তে। সবসময় লোক থাকলেও রাতে বেশি লোক থাকে। সবার মতো আমিও দেখতে এসেছি। বিষয়টি মানুষ যেভাবে ছড়িয়েছে ওই রকম মনে হয়নি। গুজব মনে হচ্ছে।’

পীরগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা রহিমা নামে এক নারী বলেন, ‘মাটিতে স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে এমন খবন শুনে এসেছি। অনেকে স্বর্ণের জিনিস পেয়েছে। তাই সকাল থেকেই মাটি খনন করছি। তবে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের কিছু মেলেনি। স্বর্ণ পেলে আমার অনেক ভালো লাগবে, ওঠা বিক্রি করে পরিবারের জন্য খরচ করব।’

স্বর্ণ খোঁজার এই কাণ্ড দেখতে আসা ঠাকুরগাঁও সদরের আবদুল আওয়াল বলেন, ‘কেবল ঠাকুরগাঁও নয়, দিনাজপুর, রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বর্ণের খুঁজে মানুষ আসছে। স্বর্ণ পাচ্ছে বলছে, কিন্তু কাউকে দেখাচ্ছে না। তবে এলাকার মানুষ বিষয়টি প্রচার করতে বাধাঁ দিচ্ছে।’

আরবিবি ইটভাটার ব্যবস্থাপক লিটন আলী বলেন, ‘কাতিহার সামরাই মন্দিরের পাশ থেকে মাটি খনন করে ইটভাটায় স্তূপ করা হয়েছে। গুজব উঠেছে ঐ মাটির স্তূপ থেকে স্বর্ণের জিনিস পাওয়া গেছে। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষ দিনরাত ঐ মাটির স্তূপ খনন করে বাছাই শুরু করেছে। তবে কেউ স্বর্ণের কোনো অংশ পেয়েছে– এমন খবর পাইনি।’

রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরে লাল কাপড় দিয়ে চিহ্নিত করে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছিল। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পরে আবারও মানুষ আসা–যাওয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’