দিনাজপুরে সিধু-কানু ভাস্কর্য ভাঙা ও আদিবাসীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ 

ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম দুই নায়ক সিধু ও কানুর ভাস্কর্য ভাঙা, সারা দেশে আদিবাসীদের ঘরবাড়ির ওপর হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সর্বস্তরের আদিবাসী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

পরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘৫  আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর একদল দুষ্কৃতকারী কাহারোল উপজেলার ১৩ মাইল এলাকায় অবস্থিত সিধু ও কানুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলে। ভাস্কর্যটি ভাঙার পর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় আদিবাসী সমাজের মধ্যে। অনতিবিলম্বে ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় এবং আদিবাসীদের ঘরবাড়ি লুটপাট -অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই। সেইসঙ্গে আদিবাসীদের সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই আমরা।’

সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়।
 
উল্লেখ্য, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম পথিকৃৎ ছিল দুই ভাই সিধু ও কানু। ১৮৫৬ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ভোগনাডিহির কাছে বটবৃক্ষ তলায় দুপুরের দিকে ফাসির মঞ্চে তোলা হয় দুই ভাই সিধু ও কানুকে। এ সময় তারা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে বলেন, ‘আমি আবার আসব, আবার সারাদেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেব।’