ফুলবাড়ী সীমান্তে মাজার জিয়ারত করতে পারেনি বাংলাদেশিরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে দরবেশ কছিম উদ্দিন মাজার জিয়ারত উপলক্ষ্যে বিজিবি-বিএসএফের টহল জোরদার করা হয়েছে। ভারতের ভূখন্ডে মাজারটি অবস্থান হওয়ায় ভারতীয়রা অংশগ্রহণ করলেও পারেনি বাংলাদেশি ভক্তরা। ফলে জিয়ারত ও মানত দিতে না পারায় শুক্রবার  বিকাল পর্যন্ত বাংলাদেশী ভক্তরা ফিরে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমনিহাট ১৫ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধীন গংগারহাট বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত ন্যান্স নায়েক ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভারতের ভূখন্ডে কছিমুদ্দিনের মাজার হওয়ায় বাংলাদেশীদের জিয়ারত স্থানে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ জন্য আমরা সকাল থেকে দিন ব্যাপী টহল জোরদার করা হয়েছে।’

জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা নাখারজান সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মনাইটারী সেউটি-৩ ও নাখারজান সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪১ এর সাব পিলার ১ এস থেকে ৫ এস পিলারের নিকট (জিরো লাইনে) প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে আরব থেকে আসা দরবেশ কছিম উদ্দিন ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গাড়েন। ধর্ম প্রচারের এক পর্যায় তার মৃত্যু হলে সেখানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর সীমান্তের দুপাড়ের ধর্মপ্রাণ লোকজন প্রতি বছর ১০ জানুয়ারি মৃত্যু দিবস পালন করে। 

সেখানে ওরস মোবারকের সঙ্গে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করা হয়। ৬ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয় তাবু। জিয়ারতের পাশাপাশি এই দিনে দুদেশের আত্মীয়স্বজনদের দেখা মেলে অনুষ্ঠিত হয়। এক অপরের সাথে কথা হতো দীর্ঘ দিন পর। সেই আশায় লোকজন মাজারে পাশে জড়ো হলেও সংযোগ মেলেনি তাদের। সীমান্তের জিরো লাইনে দরবেশের মাজারটি হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে বসবাসকারীরা যৌথ আয়োজনে ওরসটি পালন করে। এবার ভারতীয় বিএসএফের বাধায় বাংলাদেশীরা প্রবেশ করতে পারেনি।  

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা থেকে আসা সাইদুল ইসলাম ও হবিবর রহমান জানান, প্রতি বছর এখানে মেলা ও দরবেশ কছিম উদ্দিনের  জিয়ারত  হয়। নোম্যান্স লান্ডে রবেশ কছিম উদ্দিনের  জিয়ারত  ও মেলা এক সাথে হওয়ায় ভারতের আত্বীয় স্জনের সাথে দেখা হয়। সুখ দুখের আলোচনা হতো জিয়ারত উপলক্ষে। সেটা এবার আর বিজিবি-বিএসএফের টহল জোরদারের কারণে প্রবেশ করতেপারিনি এখন ফিরে যাচ্ছি। 

দরবেশ কছিম উদ্দিনের জিয়ারত কমিটির ভারতের অংশের সভাপতি আব্দুল জলিল মিয়া জানান, বিএসএফের বাঁধার কারণে এবছর বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে মাজারের জিয়ারতসহ সব ধরণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে বিএসএফ।