নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের কোয়ার্টার থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের মুন্সিপাড়া রেলওয়ে কলোনীর দর্জিপট্টি রোডে এ ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সৈয়দপুর থানা-পুলিশ কোয়ার্টারের একটি কক্ষের তালা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করে।
জানা যায়, ওই রেলওয়ের কোয়ার্টার দখল করে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছে নীলফামারী সদর উপজেলার পূর্ব চাপড়া এলাকার মৃত জামালের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪৮)। তিনি পেশায় একজন চটপটি বিক্রেতা। শহরের রেল লাইনের পাড়ে অস্থায়ী দোকান করে এই ব্যবসা করেন তিনি। তার স্ত্রী ও ছেলে চট্টগ্রামে থাকেন।
মঙ্গলবার সকল ১১টার দিকে জাহিদুলের স্ত্রী রোকসানা মোবাইল করে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দা সেলিনাকে বলেন, ‘আমাদের বাসায় একজন নারীর মরদেহ রাখা আছে। পারলে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। নারীর পুরো পরিচয় আমরা জানি না। আমার স্বামী ভয় পেয়ে চট্টগ্রামে চলে এসেছে।’
সেলিনা বলেন, ‘এরপর আমি বিষয়টা এলাকার ঠিকাদার আতিকুল ইসলামকে জানাই। পরে তিনিসহ এলাকাবাসী মিলে এসে দেখি কোয়ার্টারের গেটে তালা দেওয়া। পেছনে গিয়ে জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে খুব দূর্গন্ধ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় আতিকুল ভাই পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তালা ভেঙে ঢুকে দেখে মেঝেতে অর্ধ গলিত মরদেহ পড়ে আছে।’
পুলিশ সুরতহাল তদন্তকালে সেলিনার সঙ্গে কথা বলেন। তাকে জাহিদুল ইসলাম ফোনকলে বলেন, ‘ওই নারীর নাম আলমা (৪০)। বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। এর বেশি কিছু জানি না। গত কয়েকদিন থেকে সে নিয়মিত রেল লাইনের পাড়ে আমার দোকানে আসে এবং রাত পর্যন্ত অবস্থান করে। শনিবার রাতে আমি দোকান বন্ধ করে বাসায় গেলে সে আমার পিছু নেয় এবং জোর করেই ঘরে ঢোকে। বাধ্য হয়ে তাকে রাতে বাসায় থাকতে দেই। রাত ২টার দিকে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এতে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। সকাল পর্যন্ত কোনো কিছু ভেবে না পেয়ে মরদেহ রেখে পালিয়েছি। আমি হত্যা করিনি। মরদেহের ময়নাতদন্ত করে দেখতে পারেন। তখন দোষী সাব্যস্ত হলে আমি মাথা পেতে নিবো। এই বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।’ এরপর থেকে জাহিদুল ও তাঁর স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবদেন হাতে পেলে বোঝা যাবে এটা হত্যা, আত্মহত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’