রংপুরে গত দুই মাসে অ্যানথ্রাক্স রোগে মারা গেছে শতাধিক গরু। শুধু তাই নয়, এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। পশুবাহিত এই রোগ অনেকটা অসচেতনতার কারণেই ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের শরীরে। রংপুর ছাড়াও এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে মেহেরপুরসহ কয়েক জেলায়।
গত দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে রংপুরে। এসময়ে মারা গেছে আক্রান্ত শতাধিক পশু। আর পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে পীরগাছায় মারা গেছেন ২ জন।
এদিকে, মেহেরপুরের তিন উপজেলায় এবার অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৪ ব্যক্তি। এদের মধ্যে প্রায় সবাই গাংনী উপজেলার। কিন্তু এই রোগ মানব শরীরে সংক্রমণের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই বেশিরভাগ মানুষের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু, ছাগল, ভেড়াসহ অন্য প্রাণীর শরীরে ক্ষত তৈরি করে, ঢুকে পড়ে ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস ব্যাকটেরিয়া। পরে তা আক্রান্ত পশু থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে তিনটি উপায়ে। পশুর পরিচর্যাকারীর ত্বকে ক্ষতের মাধ্যমে, আক্রান্ত প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাসে এবং আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে লোকজন হাসপাতালে আসছিল। মূলত তারা বহির্বিভাগেই চিকিৎসা নিয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের অনেকেই এখন সুস্থ।’
অ্যানথ্রাক্স সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়ালেও, চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিরোধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতা।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা সহজলভ্য এবং এতে মৃত্যু ঝুঁকি তেমন একটা নেই। কিন্তু সংক্রমণ ঠেকাতে অসুস্থ গরু বা ছাগল জবাই বন্ধ করা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি অসুস্থ প্রাণী মারা গেলে ঝুঁকি এড়াতে মাটির গভীরে পুতে ফেলতে হবে।’
ভয়ংকর সংক্রমণ হলেও অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে পশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া, অসুস্থ পশুর মাংস না খাওয়া, আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।