বাংলাবান্ধা সীমান্তে দেশের সর্বোচ্চ পতাকাস্তম্ভে উড়ল লাল-সবুজের পতাকা

দেশের উত্তরের প্রান্তসীমা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্তে দেশের সর্বোচ্চ পতাকাস্তম্ভে আনুষ্ঠানিকভাবে উড়ানো হলো লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। ১১৭ ফুট উচ্চতার এই পতাকাস্তম্ভে এখন থেকে নিয়মিতই উড়বে স্বাধীনতার প্রতীক রক্তে অর্জিত গৌরবের পতাকা।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে আনুষ্ঠানিকভাবে উড়ানো হয় ৩০ ফুট বাই ১৮ ফুট আয়তনের বিশাল পতাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে বাংলাবান্ধা সীমান্ত এলাকা।

এর আগে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে ফলক উন্মোচন ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন অতিথিরা। উদ্বোধনের পর পতাকা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় বিজিবির কাছে।

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ এই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলাম।’

১৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

স্থানীয় শিক্ষক ফজলে করিম বলেন, ‘আমাদের দেশের পতাকা আজ সবচেয়ে উঁচুতে উড়ছে—এর চেয়ে গর্বের কিছু হতে পারে না।’

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘স্বাধীনতার এই পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর দিকে আধিপত্যবাদী কোনো দৃষ্টি আমরা সহ্য করব না।’

প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১১৭ ফুট উচ্চতার এই পতাকাস্তম্ভ এখন উত্তরাঞ্চলের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।