শীতের জেলা পঞ্চগড়ে টানা সাতদিন ধরে চলছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। টানা চারদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও রেকর্ড হচ্ছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।
সোমবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন (রাতের) তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি। সর্বোচ্চ (দিনের) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৬ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ডের মাধ্যমে শুরু হয় চলতি শীত মৌসুমের তৃতীয় দফার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এর পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ এর মধ্যেই ওঠা-নামা করছে।
টানা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের ফলে দিনভর হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকছে আকাশ। দুপুরের দিকে সূর্যের মুখ দেখা গেলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে জনজীবনে। তবে বিকেলের পর থেকে আবারও হালকা কুয়াশার সাথে হিমশীতল বাতাসে শুরু হয় কনকনে ঠান্ডা। রাতেও বৃষ্টির মত টিপটিপ করে কুয়াশা ঝরে। সকাল ৯টা পর্যন্ত সড়ক মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করে। সন্ধার পর ফাঁকা হয়ে যায় শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকা। কনকনে শীতে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয় খেটে খাওয়ার মানুষের মধ্যে।
পঞ্চগড়ের গড়ের ডাঙ্গা এলাকার ইজিবাইক চালক ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের সময় এমনিতেই আমাদের ভাড়া কম হয়। কয়েকদিন ধরেই দিনরাত ঘনকুয়াশা। বিশেষ করে বাতাসের কারণে খুব ঠান্ডা। এই ঠান্ডার জন্য আমরাই বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ রিকশায় ওঠে না। আমাদের প্রতিদিন আয় হতো ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে ৩০০ টাকা ইনকাম করতেই দিন শেষ হয়ে যায়। খুব কষ্টে আছি পরিবার নিয়ে।’