৬ বছর ধরে বরাদ্দ নেই, ধুঁকছে চরকাই গবেষণা কেন্দ্র

অবহেলায় পড়ে আছে দিনাজপুরের চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও তৈরি হয়নি গবেষণাগার। নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা জনবল। জরাজীর্ণ অবস্থা অফিস কক্ষের। তদারকির অভাবে অরক্ষিত বনভূমি থেকে প্রতিদিন চুরি হচ্ছে মূল্যবান গাছ। কর্মকর্তারা জানান, উত্তরবঙ্গের একমাত্র বন গবেষণা কেন্দ্রটিতে ছয় বছর ধরে কোনো বরাদ্দ নেই।

দিনাজপুরের চরকাই বনে সাত দশক আগে প্রতিষ্ঠিত গবেষণা কেন্দ্রটি মূলত বনায়ন কৌশল, নতুন প্রজাতির গাছের অভিযোজন ক্ষমতা এবং গাছের চারা উৎপাদন নিয়ে কাজ করে। তবে উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে নির্মিত গবেষণা কেন্দ্রটি পড়ে আছে ভুতুড়ে পরিবেশে।

চারা উৎপাদনের জন্য প্রায় ২০ বছর আগে শেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারেরা চলে যাওয়ায় সেভাবেই পড়ে আছে। অব্যবহৃত পাম্প মেশিনটিও চুরি হয়েছে অনেক আগে। কয়েক দশক আগে নির্মিত ভবন বা কোয়ার্টারে বসবাসের পরিবেশ নেই।

চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা, ভালো থাকার ব্যবস্থা যদি না করা হয় তাহলে আমরা প্রতিষ্ঠানের জন্য যে লড়ব বা কাজ করব সেই মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। গবেষণা কেন্দ্রটিকে যদি সামনে এগিয়ে নিতে চাই আমরা তাহলে কার্যালয়টিকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

গবেষণা কেন্দ্রটির অধীনে ১৯১ একর বনাঞ্চল পাহারায় নিরাপত্তারক্ষী মাত্র একজন। কোনো যানবাহন এবং আগ্নেয়াস্ত্র না থাকায় শুধু লাঠি নিয়ে পায়ে হেঁটে দিতে হয় বন পাহারা। সীমানা প্রাচীর বা বেষ্টনী না থাকায় ধ্বংসের মুখে মূল্যবান বনজ সম্পদ। 

এক কর্মচারী জানান, গবেষণা কেন্দ্রটি পাহারা দেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন নেই। একটি জরাজীর্ণ গাড়ি ছিল, সেটিও এখন আর চালানোর সুযোগ নেই। নিজস্ব বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেলেই বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চরকাই গবেষণা কেন্দ্রের আওতায় থাকা বনভূমিতে দেশীয় নানা প্রজাতি ছাড়াও রয়েছে ৬৬ প্রজাতির বিরল গাছ।