লালমনিরহাটে ৬০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, পঞ্চগড়ে ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে তিন দিন পর ১০ জনকে ফেরিয়ে নিয়ে গেছে ভারত। ছবি: ইনডিপেনডেন্টলালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে তিন দিন পর ১০ জনকে ফেরিয়ে নিয়ে গেছে ভারত।

গতকাল শনিবার রাতে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন–১৫ বিজিবির দুর্গাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, দুর্গাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার সীমান্ত পিলার ৯২৫-এর প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে শ্রীলঙ্কা পাড়া এলাকায় বিএসএফের ৭৮ পদ্মা ক্যাম্পের সদস্যরা ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তিকে জড়ো করে। তাদের বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়। এমন খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয়। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন। বর্তমানে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল দল সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে ভারতের পুশইন চেষ্টার শিকার ১০ জনকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শুন্য রেখা থেকে তিন দিন পর ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ। তাদের পুশইন চেষ্টার শিকার নারি, শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জন সীমান্তের শুন্য রেখায় অমানবিকভাবে অবস্থান করছিলে। অবশেষে রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাদের ফেরত নিয়ে গেছে বিজিবি।

বর্তমানে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল দল সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

আজ সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারীর–৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাত ২টার পর বিএসএফ শূন্য রেখা থেকে তাদের সরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান। সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বাড়তি সর্তকসহ পুশইন বা যে কোন ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড় উপজেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবির বাধার মুখে পুশইনের শিকার দুই দেশের সীমান্তের শুন্য রেখায় অবস্থান নেন পুশইনের শিকার দুই পরিবারের ১০ জন। তিন দিন সীমান্তের শূন্য রেখায় অমানবিক অবস্থানের পর রোববার মধ্য রাতে তাদের নিয়ে যায় বিএসএফ।