গাইবান্ধায় শিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সাইফুল্লাহ বারী (২২) নামে এক ছাত্রশিবির নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সালাহউদ্দিন নামে আরেক শিবিরকর্মী আহত হয়েছেন।

রোববার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়ায় এ ঘটনা হয়। নিহত সাইফুল্লাহ বারী (২২) বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি। 

স্থানীয়রা জানায়, তফসিল অনুযায়ী গত ১৬ জুন ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ছিল। ওইদিন বিকেলে স্থানীয় মাসুম কামালের নেতৃত্বে কয়েকজন মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসে। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ মাসুম কামালকে জানান, জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের একজন প্রশাশনিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে হবে। এসময় মাসুম ও তার লোকজন তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হন ও ধস্তাধস্তি করেন।  এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। 

প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ জানান, তিনি আজ দাপ্তরিক কাজে বোনারাপাড়া শিক্ষা অফিসে যান। কাজ শেষ করে একটি চায়ের দোকানে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় আগের ওই ঘটনার জের ধরে মাসুম কামালের হয়ে মুকুল, রবিউল, পলাশ, আশরাফসহ বোনারাপাড়ার বাটিয়া এলাকার কয়েকজন প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে গালিগালাজ করেন।

এসময় পাশে থাকা হাবিবুল্লাহর ভাতিজা শিবিরকর্মী মোফাচ্ছের প্রতিবাদ করেন। এসময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হলে মোফাচ্ছেরের রাজনৈতিক সহকর্মী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহউদ্দিন প্রতিবাদ করেন। এরই একপর্যায়ে মুকুলের নেতৃত্বে তার লোকজন সাইফুল্লাহ বারী ও সালাহউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুল্লাহকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালাউদ্দিন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন এবং অভিযুক্তদের মধ্যে আশরাফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’ 

গত ১৬ জুন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ দিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘কাগজপত্র দেখে বলা যাবে।’