রংপুরে নুজশাত মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকেল শিক্ষার্থী রিমান্ডে

রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাকিনের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইন আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন সাকিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সাকিনকে রংপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন বিকেলে রংপুর নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা নজরুল ইসলাম রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সাকিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

আদালত প্রাঙ্গণে নিহত নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়ে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। আমি শুধু চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের যেন আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। আদালতের আজকের সিদ্ধান্তে আমি আশাবাদী। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে বিশ্বাস করি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার বিভিন্ন দিক এখনও অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করেই একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম মণ্ডল বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত সেটি গ্রহণ করেননি। তবে আমরা মনে করি, আমাদের মক্কেল নির্দোষ। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। আইনের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’