তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা

হালকা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটার।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এই ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরেই পানিপ্রবাহ বাড়ছিল। চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন সর্বপ্রথম বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়, যা পরদিনই বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।

হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে রোববার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সময়ের ব্যবধানে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়তে পারে।

ইতিমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে এগুলোতে জরুরি মেরামত দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে। অথচ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হতো, তেমনি নদীতীরবর্তী মানুষ নদীভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেত।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা ফজলার রহমান বলেন, ‘বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে এরই মধ্যে পানি উঠেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষ আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। চারদিকে পানি আর পানি।’

গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের ফরিদ মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। তাঁরা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দী এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এসবের মাঝেও থাকে সাপ-পোকার প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘উজানের পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’