১৯ বছরেও যাচাই শেষ হয়নি ৪৭ প্রত্ননিদর্শনের

ফ্রান্সের গীমে মিউজিয়াম থেকে ফিরিয়ে আনা মহাস্থান জাদুঘরের ৪৭টি প্রত্ননিদর্শন আসল না নকল তা ১৯ বছরেও নির্ধারণ করতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। দুই দফা তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কোনো প্রতিবেদন মিলেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষজ্ঞ নেই। একই সঙ্গে নেই পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও।

ফ্রান্সের গীমে মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু প্রত্ননিদর্শন পাঠানো হয়। এরমধ্যে ৪৭টি পাঠানো হয় মহাস্থান জাদুঘর থেকে। তবে, সেসময় নানা বিতর্ক শুরু হলে প্রদর্শনী বাতিল করে সেগুলো ফিরিয়ে আনা হয় দেশে। পরে প্রত্ননিদর্শনগুলো কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞ যাচাই ছাড়াই মহাস্থান জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।

সে সময় প্রশ্ন উঠে ফেরত আনা নিদর্শনগুলো আসল নাকি নকল। জবাব খুঁজতে প্রশাসন, প্রকৌশলী, ডাক্তার, পুলিশ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে, দুই দফা সময় বৃদ্ধির পরেও প্রতিবেদন জমা দেয়নি কমিটি। সম্প্রতি আবারও প্রত্ননিদর্শন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তারা এখনো কাজই শুরু করেনি। 
 
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তদন্ত কমিটির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ বিষযে গঠিত দ্বিতীয় কমিটি এখনো কাজ শুরু করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষে অবহিত করা হয়েছে।’

প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘পাঠানো প্রত্নবস্তুগুলোর তালিকা আছে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে।’

আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রত্নসম্পদ পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের যাচাই বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দিচ্ছেন ইতিহাসবিদ ও সচেতন মহল।