স্কুল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার দুই বছরেও মেলেনি নতুন বরাদ্দ। তাই লালমনিরহাটের রাজকাছারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে পাশের মন্দিরের বারান্দাতে। খোলা জায়গায় ক্লাস নেয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে কমছে মনোযোগ। পাঠদানে হিমসিম খাচ্ছে শিক্ষকরা। তাই স্কুল ভবনের জন্য দ্রুত বরাদ্দের দাবি অভিভাবকসহ তালুক দুলালী গ্রামের বাসিন্দাদের।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা তালুক দুলালী গ্রামে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় রাজকাছারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২৫৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এটি উপজেলার তৃতীয় বৃহৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্কুলের দুটি ভবনের একটিকে ২ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এলজিইডি। অপর ভবনের তিনটি কক্ষে চলছে অফিস ও ক্লাস নেওয়া। শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাশের দুর্গা মন্দিরের বারান্দা ও মেঝেতেও চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
দুর্গা মন্দিরের সাময়িকভাবে জায়গা দিলেও মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা নিয়ে কিছুটা বিপাকে তারা, জানালো মন্দির কমিটি।
ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয। তবে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস পেলেও গত দুই বছরে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিশুদের মন্দিরের বারান্দায় পাঠদান দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আদীতমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের।’
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর আশ্বাসের মাঝেই দুই বছর ধরে আটকে আছে স্কুলের ২৫৩ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একটি নিরাপদ ও সুন্দর শ্রেণিকক্ষের অপেক্ষায় রাজকাছারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবাই।