গত ২০ বছরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে বাড়েনি চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল। এতে বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া শয্যার বিপরীতে পদ সৃষ্টি করলে হাসপাতালের জনবল সমস্যার সমাধান হবে।
২০০৬ সালে সাবেক ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। উদ্বোধনের পর কয়েক বছর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী সেবা নিতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। অন্তর্বিভাগে গড়ে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকলেও বর্তমানে সেখানে গড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত ১ হাজার ৩৪২টি পদের মধ্যে চিকিৎসকের ২০টি পদসহ মোট ১৮৭টি পদ বর্তমানে শূন্য। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে বলছে কর্তৃপক্ষ।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবসিক চিকিৎসক ডা. আবীর হাসান দীপ বলেন, ‘প্রতিদিন আউট ডোরে একজন চিকিৎসক গড়ে রোগী দেখেন ৭০ জন। একজন রোগীকে ৫ মিনিটের বেশি সময় দিতে পারেন না তারা। মেডিসিন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে একজন ডাক্তার দিনে গড়ে ১২০ জন।’
ভালো চিকিৎসক আর আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে হাসপাতালে বগুড়ার পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকেও আসেন অনেক রোগী। তবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় নানা করণে ভাগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
অনুমোদিত শয্যাসংখ্যার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদনের দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মনজুর-এ-মুর্শেদ বলেন, ‘পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও লোকবলের অভাবে আমরা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’
দ্রুত জনবল বাড়ালে ভোগান্তি কমবে এমন প্রত্যাশা রোগীদের।