কুড়িগ্রামের রৌমারীতে কাস্টমস আয়োজিত ভারতীয় গরুর নিলাম প্রক্রিয়ায় ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মারামারিতে জড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পরে উভয় দলের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রকাশ্য নিলাম ডাক সম্পন্ন হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা হয়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। দুপক্ষের নেতারা বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়নে ১০টি ভারতীয় গরু প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। এই সময়ে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জামায়াত ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিলাম স্থানে উপস্থিত হয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে লভ্যাংশ ভাগবাটোয়ারা করার চেষ্টা করে।
জামায়াতের নেতাকর্মীরা ৫০ ভাগ লভ্যাংশ দাবি করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ৩০ ভাগ দিতে রাজি হয়। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করে।
সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা মাহাবুব আলম নামে ছাত্রশিবিরের সাবেক এক নেতা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলে চাইলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরে উভয় দলের উপজেলা নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পরিস্থিতি শান্ত হলে পরে প্রকাশ্য নিলাম সম্পন্ন হয়। যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় ১০টি ভারতীয় গরু নিলামে কেনেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘একটি পক্ষ সবসময় নিজেদের মধ্যে দরকষাকষির মাধ্যমে নিলাম ডাক করে আসছে। আমরা এটার বিরোধিতা করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্য নিলামের দাবি জানিয়েছি। এতে করে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বেশি হয়। কিন্তু বিএনপির লোকজন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের লোকজনকে মারধর করে। এ ঘটনায় আমরা স্থানীয় বিএনপির নেতাদেরকে জানিয়েছি। উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
প্রশাসনিক অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন জামায়াত নেতা বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা বলেছি যেন ভবিষ্যতে অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, ‘কয়েকটি গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হয়েছে। বিএনপি এ ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। আমাকে জামায়াতের উপজেলা আমির হায়দার ভাই ফোন করেছিলেন। বিষয়টি আমরা বসে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকায় বিষয়টি সংঘর্ষের পর্যায়ে যায়নি। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত (বুধবার দুপুর) কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’



