রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যায় আস্থা নেই স্বজন ও স্থানীয়দের। তাদের দাবি, আটক সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কখনোই মাদক সেবন করতে দেখা যায়নি। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি। ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ ও সিআইডি।
উল্লেখ্য, রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের নির্মম হত্যাকাণ্ডে এখনও শোক ও উৎকণ্ঠায় কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার মানুষ। তবে মাদক সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় চারজনকে হত্যার যে দাবি পুলিশ করেছে, তার প্রতি আস্থা নেই স্বজন ও স্থানীয়দের। তাদের দাবি, আটক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে কখনোই মাদক সেবন করতে দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর একজন জানান, যে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ ঘটনায় সেটা আমাদের কাছে, জনগণের কাছে, ছাত্রদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে...এটি একটি নাটক বলে মনে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক তরুণ বলেন, এই খুনের আলামতগুলো যে পরীক্ষিত, এগুলোর সুসংগঠিতভাবে কোনো প্রশ্নের আমরা উত্তর পাইনি। দু'জনকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, পুরো জিনিসটাকে আড়াল রেখে কিছু মাদক কারবারীদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে যে, আসল অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
এদিকে, শনিবার রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
রংপুরের কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, 'সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের উপস্থাপন করি। আসামীরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান আছে।'
পুলিশ বলছে, জবানবন্দিতে আসামিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ডাকাতি কিংবা কোনো ধরণের বিরোধের কথা বলেননি।
রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, 'তারা ইয়াবা কিনতে গিয়ে তাদের বাটন ফোন সেখানে বন্ধক রাখে। এই ঘটনার পরে তারা যে টাকা পায়- সাড়ে ৩ হাজার টাকা সম্ভবত ওদের ভাগে পড়েছিল, ক্যাশ টাকা- সেই টাকা দিয়ে ওই মোবাইল ফোন ছাড়িয়েও আনে ওরা, খুনের পরের দিন।'
হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর সাথে আর কেউ জড়িত কিনা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও সিআইডি।
এদিকে, ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, 'আমরা সবগুলোকেই ময়নাতদন্ত করেছি এবং আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে...যে সব স্যাম্পলগুলো রাখা যায় সিআইডি'র জন্য, সেসব স্যাম্পলগুলো আমরা রেখেছি। আমরা সিআইডি ল্যাবে পাঠাব। সিআইডি ল্যাব থেকে যে রিপোর্ট আসবে তার ভিত্তিতে আমরা আমাদের মতামত জানাব।'
এদিকে প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবারও বিক্ষোভ করে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা।