ঠাকুরগাঁও সীমান্তে গুলি করে হত্যা

৪০ ঘণ্টা পর বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর বিএসএফের

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুল হকের মরদেহ প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর বিজিবির হাতে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী–বিএসএফ। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় পীরগঞ্জের দানাজপুর সীমান্তে মরদেহটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–বিজিবির হাতে হস্তান্তর করা হয়। 

এ সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভারতের রায়গঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত আসাদুল হক দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক। তার আয়–রোজগার দিয়েই সংসার চলত পরিবারটির।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার আইয়ুব আলী নেতৃত্বে চারজন ভারতের তারকাটা কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আসাদুল গুলিবিদ্ধ এবং মোস্তাকিম ও উদা আহত হয়। আসাদুল, মোস্তাকিম ও উদা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী–বিএসএফের নিয়ন্ত্রণে গেলেও আইয়ুব আলী এ সময় নিখোঁজ হন।  

 

গত শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা হয়। নিহত আসাদুল হক ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের আলীর ছেলে। আর আটক একই এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও মুনষা নারায়ণের ছেলে  উদা। নিখোঁজ আইয়ুব আলী একই এলাকার। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার ৩৩৩ এমপি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতরা আমার এলাকার ছেলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আমরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। এছাড়াও আহত দুজনকে রায়গঞ্জ থালা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে বিএসএফ।’

এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানার পর বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার পতাকা বৈঠক করেছি। তারা ১ জন নিহত ও ২ জন আহতের কথা স্বীকার করে। আসাদুলের মরদেহ তিন দফা পতাকা বৈঠকের পর সাড় ৮টা সময় হাতে পেয়ে পেয়েছি।’

ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুল হকের মরদেহ গভীর রাতে উপজেলা দানাজপুর সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করা হবে এমনটি নিশ্চিত করে বিজিবি। পরের মরহেদ পাওয়ার পরে আসাদুলের স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।’