মৌলভীবাজারে হিম বাতাস ও কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত, তাপমাত্রা নামল ৯.৬ ডিগ্রিতে

হাওর-টিলা-নদী বেষ্টিত জেলা মৌলভীবাজারে হিমশীতল বাতাস ও মাঝারি কুয়াশার সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলাজুড়ে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের অধিকাংশ সময়েই সূর্য কুয়াশায় ঢাকা থাকছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শীতের প্রকোপে কৃষকরা মাঠে গিয়ে কাজ করতে পারছে না। সকাল থেকে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। কর্মজীবীরা প্রয়োজনের তাগিদে বের হলেও সাধারণ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা রাস্তায় বের হলেও যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে চা বাগান এলাকায় শীতের প্রভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। চা বাগানের দরিদ্র শ্রমিকরা সন্তানদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক পরিবারই মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা কনকনে শীতে বেশি বিপাকে পড়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। আগামী কয়েকদিন শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।’

মো. আনিসুজ্জামান আরও বলেন, ‘শীতের পাশাপাশি কুয়াশার পরিমাণও বেড়েছে। এর ফলে রাতে ও সকাল বেলায় যান চলাচলেও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’