ময়লার ভাগাড়ে ইশতেহার পাঠ এনসিপি প্রার্থীর 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ (আসন-৪) থেকে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাস ব্যতিক্রমীভাবে ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেছেন। এ সময় তিনি ভোটারদের শাপলা কলি মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। 

রোববার সকালে শ্রীমঙ্গল পৌরশহরের কলেজ রোডের পাশে ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই ইশতেহার প্রকাশ করেন।

ইশতেহার পাঠকালে প্রীতম দাস বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত রিসোর্ট কিংবা বিলাসবহুল হোটেলে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেন। আমি আমার ইশতেহার পাঠ করছি শ্রীমঙ্গলের দুঃখ এই ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে।’

তিনি বলেন, ‘এই ময়লার ভাগাড়ের সামনে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে আমি টানা ১৪ বছর পড়াশোনা করেছি। ভাগাড় অপসারণের যে দীর্ঘদিনের আন্দোলন চলছে, তার প্রতি সংহতি জানাতেই এখানে দাঁড়িয়ে ইশতেহার পাঠের উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রীতম দাস আরও বলেন, ‘আমরা ছোট থেকেই এখানে বড় হয়েছি। কিন্তু এত বছরেও এই ময়লার ভাগাড় অপসারণে ব্যর্থতা রয়েছে। আমি নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই ভাগাড় অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব।’ 

নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো ফুলঝুরি নয়। কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের মানুষের সঙ্গে কথা বলে যেসব বাস্তব সমস্যা ও সংকট উঠে এসেছে, সেগুলোই ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাত, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, চা জনগোষ্ঠী এবং হাওরাঞ্চলের সমস্যার কথা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন প্রীতম দাস। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নাগরিক সেবা উন্নয়নের কথা বলেন তিনি।

৫ আগস্টের পর থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে রাজনৈতিক হয়রানি করা হয়েছে। এসব মিথ্যা মামলা ও হয়রানিকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
যুব ও নারীদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রীতম দাস জানান, যুবকদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সলিউশন’ চালু করা হবে, যেখানে তারা যেকোনো সমস্যা সমাধানে পরামর্শ ও সহায়তা পাবেন। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে হোমস্টে, কালচারাল ট্যুরিজম ও ইকো-ট্যুরিজম চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হবে না, বরং তাঁদের উন্নয়নমূলক কাজে উৎসাহ দেওয়া হবে।