সুনামগঞ্জে আরও ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে

সুনামগঞ্জে নতুন করে জলাবদ্ধতায় আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আরও জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও সুরমা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে বছরের একমাত্র ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ৪১৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যা মোটের ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন হাওরে চার দফায় এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে চূড়ান্ত ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর জমির ধান।

একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে মাড়াই খলায় শত শত মণ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘রোদের অভাবে কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না। এর মধ্যে তার পাঁচ কেয়ার জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।’ এতে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরেক কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘এ বছর জমিতে ভালো ফলন হয়েছিল। আশা ছিল প্রতি কেয়ারে ২০ মণ ধান হবে। কিন্তু পানির কারণে ধান ঠিকমতো পাকেনি। আধাপাকা ধান কাটতে হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে খরচও বেড়েছে। অনেক সময় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে শ্রমিক নিতে হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে কেউ ধান কাটতে চায় না।’

তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক দিলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যে জমির ধান বৈশাখের শুরুতেই কাটার কথা ছিল, তা এখনও শেষ হয়নি। মাড়াই খলায় ১৩০-১৪০ মণ ভেজা ধান পড়ে আছে। রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। এর আগে ৩৫-৪০ মণ ধান নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে থাকা ধানও আগামী দুই দিনের মধ্যে রোদে শুকাতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তাতে সরকারের উচিত দ্রুত সহায়তা করা। কৃষকরা সবসময়ই অবহেলিত থাকে।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জসহ উজানে আগামী ৭ মে পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তিনি বলেন, ‘৩ মে পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং পরবর্তী চার দিনে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বাড়বে এবং এতে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়াইসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।’