দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হবিগঞ্জের শাখা বরাক নদী। প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতায় দুই তীরে অবাধে গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর অবস্থাও নাজুক। এর আগে, নদীতীরের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। এজন্য প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ স্থানীয়দের।
নবীগঞ্জ শহরের বুক চিরে বয়ে চলা শাখা বরাক নদীতে এক সময় বর্ষায় ছিল থৈ থৈ পানি। তবে দখল-দূষণে এখন পরিণত হয়েছে সরু খালে।
শহরের ডাকবাংলো এলাকা, নোয়াপাড়া পয়েন্ট, শিবপাশা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা এবং হাসপাতালের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে নদীতে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। তীর দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে নানা স্থাপনা। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২০ সালে শাখা বরাক নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। অন্তত ১০১টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলেও হঠাৎ থেমে যায় তোড়জোড়।
নবীগঞ্জ রিভার উইংস সদস্য সচিব ফয়জুর রব বলেন, ‘নদীটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা দাখিল করেছে উপজেলা প্রশাসন। তীর দখলমুক্ত করতে শিগগিরই অভিযানের দেওয়া হচ্ছে আশ্বাস।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘নদীর নাব্যতা ফেরাতে খনন প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ আবাস নিশ্চিতে নদী রক্ষার পাশাপাশি স্থানীদের সচেতন করার তাগিদ পরিবেশ কর্মীদের।