ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, ১৫ দিনে ঝড়ল ২৩ প্রাণ

একের পর এক দুর্ঘটনায় রীতিমতো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। গত ১৫ দিনে মহাসড়কের শুধু সিলেট অংশে ঝরেছে ২৩ প্রাণ। আর ছয় মাসে মারা গেছেন শতাধিক মানুষ। হাইওয়ে পুলিশের মতে, বেহাল সড়ক, বেপরোয়া গতি আর অসাবধানতার কারণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা।

গত ২২ আগস্ট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানী নগরে লরির ধাক্কায় প্রাণ যায় সিএনজি'র ৪ যাত্রীর। এর দিন পনেরো আগে, একই উপজেলায় দুই বাসের সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের তথ্য বলছে, সিলেট অঞ্চলে গত ছয় মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৮৮টি এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪৯ জনের। এগুলোর ৮৫ শতাংশই ঘটেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। একের পর এক দুর্ঘটনায় অনেকটা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে মহাসড়কটি।

এই রুটে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এক যাত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট রাস্তায় কোনো আইল্যান্ড (রোড ডিভাইডার) নাই, যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং সারা জীবনই ঘটবে।

অন্যদিকে, এক চালক জানান, আমাদের বাংলাদেশে এমন এবড়ো-খেবড়ো রাস্তা, কোথাও কোথাও এত বড় (হাত দিয়ে দেখিয়ে) গর্ত হয়ে গেছে। এগুলো কারও নজরে আসে না।

একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক নিয়ে এই মহাসড়কে যাতায়াত করছেন চালক ও যাত্রীরা। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে চালকদের মাঝে তীব্র ক্লান্তি দেখা যায়। এতে অতিরিক্ত গতি আর বিপজ্জনক ওভারটেকিং বাড়ছে।

সিলেট অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের সুপার রেজাউল হক বলেন, 'তারা (চালকরা) বেপরোয়া গাড়ি চালায়। এটা (দুর্ঘটনার) একটা বড় কারণ। অনেক সময় লম্বা পথে গাড়ি চালালে তাদের ক্লান্তিও আসে। বিশেষ করে রাতের গাড়িগুলো যখন সিলেটের দিকে আসে তখন সকাল হয়। এসময় তন্দ্রাভাব কাজ করে। এগুলো আসলে মূল কারণ বলে আমি মনে করি।' 

দুর্ঘটনা রোধে চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, মহাসড়কের ভাঙা অংশ মেরামত এবং থ্রি-হুইলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধের জোর দাবি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের।

নিরাপদ সড়ক চাই'র সিলেট অঞ্চলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মিশু বলেন, 'আমরা বারবার বলেছি মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় করার জন্য। স্পিড ক্যামেরা ব্যবহার করে তারা (হাইওয়ে পুলিশ) যদি নিয়মিত মামলা দিত তাহলে তো চালকদের মধ্যে সচেতনতা আসত। আর সব শেষে সচেতনতার বিকল্প নাই। সব ক্ষেত্রেই সচেতন হতে হবে। চালকদেরও হতে হবে, যাত্রীদেরও হতে হবে।'

মহাসড়কে মৃত্যু ঠেকাতে, সরকারের পাশাপাশি চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ চান স্থানীয়রা।