যে কারণে মিলছে না শাহজালালের ই–গেইটের সুফল

মাত্র ১৮ সেকেন্ডেই একজন যাত্রী নিজেই নিজের ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমনের তিন পথের একটিতে বসানো হয়েছে ই-গেইট। কিন্তু সবার হাতে নেই ই-পাসপোর্ট। আবার অনেক যাত্রী জানেনই না এর ব্যবহার। ফলে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ই-গেইট প্রকল্পে মিলছে না কাঙ্খিত সুফল।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হয় ২৬টি ই-গেইট। এর মধ্যে আগমনির জন্য ১২টি, বহির্গমনে ১২টি ও ভিআইপিতে বসানো হয় ২টি। এতে একজন যাত্রী মাত্র ১৮ সেকেন্ডে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন।

যদিও এ বিষয়টি অজানা অনেক যাত্রীর কাছেই। তাই ই-পাসপোর্ট থাকার পরও ব্যবহার হচ্ছে না ই-গেইট। সেই সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষেরও কোনো নির্দেশনা নেই বলে দাবি যাত্রীদের।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় সময় জুড়েই সচল ছিল ই-গেইট। এরপরও প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৫ শতাধিক মানুষ তা ব্যবহার করছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের কাছে এখনো শতভাগ ই পাসপোর্ট নেই। তাদের একটি বড় অংশের কাছে এখনো এমআরপি পাসপোর্ট আছে। আর যাদের কাছে ই–পাসপোর্ট আছে কেবল তারাই এই গেটগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এরপরও আমাদের মনে হয়েছে এখন যে ই–গেইটগুলো আছে সেগুলো আরও বেশি সংখ্যক যাত্রী ব্যবহার করতে পারেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-গেইট ব্যবহার করে একজন যাত্রী কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ পান। তাই ই-গেইট থাকার পরও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইমিগ্রেশন কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। 

এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক জটিলতা থাকতে পারে। আমার মনে হয় রিপেয়ার করে এগুলোকে একটা পর্যায়ে এনে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলাটা আমি মনে করি ইমিডিয়েটলি দরকার।’

এখন পর্যন্ত ঢাকায় ২৬টি, চট্টগ্রামে ৬টি এবং সিলেট বিমানবন্দরে ৬টি ই-গেট চালু হয়েছে। এছাড়া বেনাপোলে ৪টি এবং বাংলাবান্ধা পোর্টে ২টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে।