জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বরাদ্দ বাড়লেও সুন্দরবন রক্ষায় নেই স্পষ্ট ঘোষণা

এবারের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বরাদ্দ বাড়লেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষায় নেই স্পষ্ট কোনো ঘোষণা। সুন্দরবন নিয়ে দিক-নির্দেশনা না থাকায় চিন্তিত পরিবেশবাদীরা। তাঁরা বলছেন, সুন্দরবন ও সুন্দরবনবেষ্টিত উপকূল রক্ষায় আলাদা বরাদ্দের পাশাপাশি সুন্দরবন উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা দরকার।

ঘূর্ণিঝড় রিমালে খুলনা ও বরিশালের উপকূলীয় বাঁধের ২৬৩ স্থানে ৪১ কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেড় লাখ ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণরূপে। খুলনা বিভাগের তিন উপকূলীয় জেলায় মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে ৬০৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় রিমালে মারা গেছে ১৩৮টি বন্যপ্রাণী। অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায়, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ মিলেছে ১১ হাজার ৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৪ দশমিক এক আট শতাংশ। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষায় কীভাবে ও কী পরিমাণ বরাদ্দ হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি বাজেটে। বাজেটে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। 

সুন্দরবন একাডেমি পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, এবারের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বরাদ্দ বাড়লেও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষায় নেই স্পষ্ট কোনো ঘোষণা। কিন্তু সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষণা, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো, জনবল উন্নয়নে বোর্ড গঠন করা যেতে পারে।

রিমালের আগে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, বুলবুল, ইয়াসে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলকে রক্ষা করে সুন্দরবন।