এলডিসি উত্তরণের পরও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে উচ্চমূল্যের বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদনে জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে পোশাক শিল্পের এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কাঁচামাল উৎপাদনে সরকারি নীতি সহায়তা দাবি করেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ও পরবর্তীতে শ্রমিক অসন্তোষে দেশের শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ে। বেশ কিছু কারখানায় বন্ধ থাকে উৎপাদন। এমন অবস্থায় রপ্তানি নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা এড়ানো গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশের বেশি। গত ১২ বছরে পোশাক শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার নিশ্চিতে অগ্রগতি হয়েছে। পরিবেশবান্ধব লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানাও দুইশতাধিক।
২০৩০ সাল নাগাদ পোশাক রপ্তানিতে ১০০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য আছে। ইপিবি বলছে, লক্ষ্যপূরণে উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে জোর দিতে হবে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নানা সমস্যার পরও পোশাক রপ্তানিতে সক্ষমতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে কয়েকবছরে রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করতে নন-কটন পোশাকের বিকল্প নেই। এলডিসি উত্তরণে শুল্ক সুবিধা থাকবেনা। মালিক-শ্রমিক-উদ্যোক্তার সমন্বিত উদ্যোগ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে সহজ করতে পারে।’
পোশাক শিল্পের সূতা, কাপড় ও এক্সেসরিজ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে দেড়শোর বেশি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, বিশ্ববাজার ধরে রাখতে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।
ইনডেট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার বলেন, ‘সরকার ইউটিলিটি যদি আমাদের অফ দিতে পারে, আমাদের উদ্যোক্তা যারা আছে তারা যদি বাংলাদেশে ইনভেস্ট করে র ম্যাটারিয়ালে, তাহলে আমরা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের থেকে এগিয়ে যেতে পারব।’
ইন্টারলিংক ড্রেসেসের সিইও সাইফুর রহমান বলেন, ‘যারা উৎপাদক আছে, উদ্যোক্তা আছে তারা এখানে এসে ভ্যারাইটি দেখতে পারে, নতুন ফ্যাশন দেখতে পারে। আমাদের তো আরএনডি নাই। এখানে আরএনডিটা ওভাবে হয় না। চাইনিজ ইন্ডাস্ট্রি হিউজ আরএনডি বেজড।’
সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে পোশাক শিল্পের চারদিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।