বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এ অঙ্ক গত কয়েক অর্থবছরের প্রায় তিনটি বাজেটের সমান। ঋণের স্থিতির এই হিসাব ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এক বছরে ঋণের স্থিতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা সরকারের ঋণসংক্রান্ত ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি মোট ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ এই প্রথম ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুন শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২০ হাজার ২০৫ কোটি টাকায়।
গত ৩০ জুন শেষে দেশের মোট জিডিপির আকার ছিল ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে জিডিপির তুলনায় ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশে।
সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হারও অনেক বেড়েছে। দুই বছর আগে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার ছিল ১ থেকে ৬ শতাংশ। বর্তমানে গড় সুদহার ১২ শতাংশ। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে দেশি ঋণের সুদই ৯৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। যা পরিচালন ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। আর সরকারের মোট ব্যয়ের ৪৪ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ সময়ে পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় ছিল ৮২ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। উন্নয়নসহ মোট ব্যয় ছিল ৯৬ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।