বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পাটপণ্যের বহুমুখী চাহিদা। তবে, আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। ২০২৪-২৫ সালে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ১০ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারখানার উন্নয়নে সহযোগিতা বাংলাদেশ থেকে পাট রপ্তানি বাড়বে।
সম্ভাবনা থাকা স্বত্তেও দীর্ঘদিন ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখাতে রপ্তানির পরিমাণ ৩৪১ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ ভাগ কম। রপ্তানির মধ্যে পাটের সুতাই সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কাঁচা পাট।
পাটের শপিং ব্যাগ, জিওটেক্সটাইল ও ফ্লোর কভারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন দেশে। এ ছাড়া পাটকাঠির তৈরি চারকোলের চাহিদাও বাড়ঝে বিদেশে। তবে আমাদের দেশে এ খাতে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারখানার স্বল্পতা। এছাড়া উৎপাদন থেকে শুরু করে সার্বিক বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবও। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও উদ্যোক্তাদের।
পাট ও পাটজাত পণ্যের এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘সরকারের যদি সহযোগিতা থাকে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন অনেক রকমে উদ্ভাবন হচ্ছে, ফিউশন হচ্ছে সেটা প্রচার এবং প্রসারের মাধ্যমে আমরা বিশ্ব বাজারে পৌঁছে দিতে পারি।’
একটা সময় ছিলো যখন মনে করা হতো পাট দিয়ে শুধু চটের ব্যাগই তৈরি হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই ধারণা এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শৌখিনতা থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে পাটপণ্যের চাহিদা।
আরেকজন উদ্যোক্তা বলেন, ‘পাটের ব্যবহারটা দেশে বাড়ানো প্রয়োজন একই সঙ্গে বিদেশের বাজারে কীভাবে নেওয়া যায় সে ব্যাপারে আরও উদ্যাোগী হওয়া দরকার।’
পাটের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়লেও জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৭৭টি কারখানার মধ্যে চালু আছে মাত্র ১২টি। ফলে পাটের সুতার উৎপাদনও কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।