‘প্রয়োজনে আইএমএফের শর্ত না মেনে কৃষিতে ভর্তুকি দেবে সরকার’

কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে চায় সরকার। প্রয়োজনে দাতা সংস্থা আইএমএফের শর্ত না মেনে এ খাতে সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। আজ শনিবার রাজধানীতে কৃষি বাজেট নিয়ে এক সেমিনারে একথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামীতে ভর্তুকির অর্থ গবেষণায় কাজে লাগাতে চায় সরকার।

দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত কৃষি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে একমাত্র অবলম্বন এই খাতটি। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে যার অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি বলছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ হতে পারে ৪০ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষি পণ্য ও এ খাতের যন্ত্রপাতির দাম কমানো গেলে উপকৃত হবেন কৃষকেরা। 

মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘কৃষিপণ্যের দাম যদি কমে আর তাঁর সাথে কৃষি উপকরণের দাম যদি না কমে তাহলে কৃষক মরে যাবে। সেই আমাদেরকে কৃষিপণ্য সার, বীজে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হবে।’ 

কৃষিবিদরা বলছেন, গত চার বছরে কৃষিতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তারা জানান, যে হারে মূল বাজেট বাড়ছে, সে হারে কৃষিতে বাজেট বাড়ছে না। তাই বাজেট প্রনয়ণকারীদের এ খাতের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া তাগিদ তাদের।

কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যেই হারে মোট বাজেট বাড়ছে, সেই হারে কৃষিবাজেট বাড়ছে না। আমরা যদি আজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই এবং আগামী ৩০ সালের মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই তাহলে রিভার্স করতে হবে।’

এদিকে, কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। বলেন, দেশে শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষিতেও গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘সাবসিডিয়ারি তোলার জন্য আইএমএফ আমাদের অনেক শর্ত দিচ্ছে। আপনারা জানলে খুশি হবেন সরকার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রয়োজন হলে আমরা আইএমএফ থেকে বেড়িয়ে আসব।’

মূল বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ ১০ শতাংশ আর ভর্তুকিতে ৫ শতাংশ করা গেলে এই খাত আগামীতে উঠে দাঁড়াবে বলে দাবি গবেষকদের।