বাজারভিত্তিক দামের প্রভাব নেই ডলারের বাজারে 

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ডলারের দাম বাজার-ভিত্তিক করার পরদিন স্থিতিশীল রয়েছে দাম। খোলা বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। মানি এক্সচেঞ্জগুলো ১২৩ থেকে ১২৪ টাকার আশপাশে ডলার বেচাকেনা করছে। তবে দাম বৃদ্ধির শঙ্কা খোলা বাজারের ডলার ব্যবসায়ীদের। 

মানি এক্সচেঞ্জ এসোসিয়েশন বলছে, নতুন নীতিতে ডলারের বাজার পরিস্থিতি বুঝতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে।

ডলারের দাম এতো দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এবার আইএমএফের শর্তের কারণে সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করায় থাকবেনা কোনো নিয়ন্ত্রণ। দাম নির্ধারণ হবে চাহিদা ও জোগান অনুযায়ী।

ডলারের দাম বাজার ভিত্তিক করার প্রথম দিনে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে তেমন চাপ ছিল না গ্রাহকের। খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২৩ থেকে ১২৪ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

মানি এক্সচেঞ্জের একজন কর্মী বলেন, ‘বাজার ভিত্তিক করলে তো অবশ্যই ডলার দাম বেড়েই যাবে। কারণ বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে দামটা। আজকে আমরা ১২৩ টাকা করে কিনছি আর বিক্রি করছি ১২৪ টাকায়। কিন্তু বাজারে তেমন ক্রেতা নেই। কেনা বেচা একদমই কম।’

ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করায় হুন্ডির প্রবণতা কমবে বলে মনে করে মানি এক্সচেঞ্জ এসোসিয়েশন। বাজারে পর্যাপ্ত ডলার থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী হবে না বলেও আশা তাদের। 

সংগঠনের সভাপতি এম এস জামান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রেটগুলো দেখব। পরে এগুলো যাচাই বাছাই করব। সেন্ট্রাল ব্যাংকও দেখতে। তাদের সঙ্গে আমরা দেখব। এগুলো নিয়ে আলাপ করে পরে আমরা সিদ্ধান্তে যাব।’

এদিকে ব্যাংকের নির্ধারিত শাখাগুলোতে ১২১ থেকে ১২২ টাকা দরে ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। তবে কোনো কোনো শাখায় গ্রাহক নির্ধারিত পরিমাণ ডলার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো বলছে, তারা আগের দামেই ডলার ক্রয়-বিক্রয় করছে। 

সোনালী ব্যাংকের (লোকাল শাখা) মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রিজার্ভ ভালো পজিশনে আছে, আইএমএফের কিস্তি ছাড় হবে জুনের মধ্যে, সামনে রেমিট্যান্স… এটাতো নেগেটিভ কোনো কিছু নাই। বেড়ে যাওয়ার মত কোনো ইস্যু সামনে আছে বলেও মনে হচ্ছে না।’

কেউ যাতে কৃত্রিমভাবে ডলারের বাজার অস্থির করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।