বাজেটের বেশিরভাগ লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী: সিপিডি

আগামী অর্থবছরের বাজেটের বেশিরভাগ লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। বাজেট কাঠামো ও দর্শন গতানুগতিক। নেই সুশাসন নিশ্চিতের দিক নির্দেশনাও। আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডির বাজেট সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। সরকার জনমতে গুরুত্ব না দিয়ে কুম্ভকর্ণের মত আচারণ করছে বলেও মনে করেন তারা। এসময় ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ, জ্বালানি সংকট বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য বড় বাধা।

রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ধরা হয়নি এবারের বাজেটে। গবেষকরা বলছেন, বছরে ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান জোগানের কোনো রোডম্যাপ নেই।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি আয়োজিত সংলাপে বলা হয়, কোন কোন মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার অভাবও বাজেট বাস্তবায়নের বড় অন্তরায়। 

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘ন্যায় ভিত্তিক এবং টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে বাজেটের মধ্যে বলা হয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আহরণের বিভিন্ন পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে, কিংবা ব্যয়ের কাঠামো, কিংবা খাদ্য বরাদ্দ সেটা এই উদ্দেশ্যর সঙ্গে সাংঘার্ষিক বা অসামঞ্জস্য।’ 

স্বাস্থ্য, শিক্ষাখাতের বরাদ্দ অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন আলোচকরা। ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় সুদের চাপ বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, নীতি নির্ধারকরা ব্যবসার চ্যালেঞ্জ আমলে নিচ্ছেন না।

বিটিএমএ এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘হ্যাঁ আপনি চুরি কমিয়েছেন, তাহলে ওই টাকাটা দিয়ে এলএনজি কিনেন আমাদের বাঁচানোর জন্য। বাজেট পরবর্তী প্রভাব, আমরা আপনাদের প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিব। উনারা এখান থেকে ভেগে যেতে পারবে না।’   

অর্থনীতিবিদরা বলেন, বাজেটে নেই সুশাসন নিশ্চিতের দিকনির্দেশনা। অভ্যুত্থান পরবর্তী অরাজনৈতিক সরকার বাজেট কাঠামো সংস্কারের বড় সুযোগ হারিয়েছে। তারা মনে করেন, আমলাতন্ত্রের কারণেই তা সম্ভব হয়নি। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই সরকারের মধ্যে একটা অদ্ভূত লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, যেটাকে বলা যায় নতুন ধরনের ‘কুম্ভকর্ণ সিনড্রম’ বা প্রতিক্রিয়াহীন শ্রবণ।’

গায়েবি মামলায় ব্যাবসায়ী সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও মনে করেন বক্তারা। তাদের মতে, স্থিতিশীল শাসন ব্যবস্থা ছাড়া বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি ফিরবে না।