দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার বাড়ছেই, কারণ কী

দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর দেশে স্নাতক পাস বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। অর্থাৎ দেশের মোট বেকারের ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশই স্নাতক পাস, যা গত বছরের চেয়ে ১৩ দশমিক ১১ শতাংশের বেশি।

অনেকদিন ধরে মন্দা যাচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। বিনিয়োগ না থাকায় দেশে প্রতিনিয়ত কমছে কর্মসংস্থান, আর বাড়ছে বেকারত্ব। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে কর্মসংস্থান কমছে।

বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দেশে বেকার ছিল ২৬ লাখ ২৪ হাজার, যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রীধারী ছিল ৮ লাখ ৮৫ হাজার। জরিপের তথ্য মতে প্রায় দুই বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক পাশ করা প্রতি তিন জনের একজন বেকার। সাতজনের মধ্যে একজন এক বছর ধরে বেকার, আর ছয়জনের একজন প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেকার। 

ডিগ্রিধারী বেশ কয়েকজন বলছেন, যারা পাশ করে তারা সবাই চাকরির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু চাকরি পান মাত্র ছোট একটি অংশ। বাকিরা পায় না। এভাবে প্রতি পরীক্ষায় এমন হয়। সরকারি চাকরির জণ্য যারা চেষ্টা করে, তারাই মূলত বেকার থাকে কয়েক বছর। 

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে। এ ছাড়া, স্নাতকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা–দক্ষতা নিয়েও আছে প্রশ্ন। তাই, শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরীর আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলছেন, ‘এটা থেকে উত্তরণ হতে হলে আগে লাগবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। তখন প্রকৃতপক্ষ সব জায়গাই চাঙ্গা হয়ে যায়। অর্থনৈতিক কার্যক্রম তার গতি ফিরে পায়। আর তার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে থাকে।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের গভর্নেন্স ইস্যু রয়েছে। এখনো ২২টি ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লিয়ারেন্স লাগে। এ ছাড়া নানা জটিলতা রয়েছে। এ কারণে আসলে ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে না। আর এভাবে বিনিয়োগ না হলে নিয়োগও হয় কম।’

বিবিএস বলছে, স্কুল–কলেজ পাশ করে শিক্ষার্থীদের চাকরিতে ঢোকার চেষ্টা সফল হলেও, সেই হারে চাকরির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয় স্নাতক পাশ করারা।