কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর ব্যবহার নিয়ে কোনো নীতিমালা নেই দেশের ৬৮ ভাগ ব্যাংকের। এমনকি, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে দুর্বলতা। আজ বুধবার রাজধানীতে গবেষণা সংস্থা বিআইবিএম এর এক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে।
ঝুঁকি এড়াতে এআই-এর ব্যবহারে সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তারা। এ সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্রাহক সেবা ও সাইবার নিরাপত্তায় ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি। নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১৬ সালে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। এত বছর পার হলেও, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ।
ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বিআইবিএমের আলোচনায় উঠে আসে সাইবার হামলার শিকার হলে, বর্তমানে এআই পদ্ধতি ব্যবহার করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংকের। বাকি ৯৫ শতাংশ ব্যাংক সাইবার হামলা পরবর্তী পুনরুদ্ধারে এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তাই, প্রযুক্তি খাতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বিআইবিএম’এর।
বিআইবিএম পরিচালক মো. শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ‘হ্যাকাররা অ্যাটাক করার জন্য ইনোভেটিভ সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। কাজেই এটাকে মোকাবিলা করার জন্য আমাদেরকে ব্যাংকের সিকিউরিটি সিস্টেম যেগুলো আছে সেগুলো অ্যাপ আপডেট করতে হবে।’
এ সময় আলোচকেরা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। তবে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে না পারলে ব্যাংকসহ অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা তাদের।
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মানিলন্ডারিং কিংবা সাইবার সিকিউরিটির ক্ষেত্রে বলি, মনিটরিং ম্যানেজমেন্ট ট্যুলসের কথা বলি, সবাই যারা অফার করছে তারা এআই এর কথা বলছে।’
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওসমান এরশাদ ফয়েজ বলেন, ‘আমাদের দেশে মোটা দাগে হিউম্যান সিকিউরিটি কম, সাইবার সিকিউরিটি তো অনেক দূরের কথা। তো রিয়েলিটি আমাদেরকে নিতে হবে এবং রেগুলেটরদের সাথে আমাদের কাজ করতে হবে।’
ব্যাংকের দ্রুত গ্রাহক সেবা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে এআইসহ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশ্লেষকদের।