কাঙ্ক্ষিত ঋণ না পাওয়ায় পিছিয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা (এসএমই)। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন শেষে এ খাতে মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১৭ শতাংশ দেওয়া হয়েছে, যা আগের দুই বছরের চেয়ে কম। এ পরিস্থিতিতে, এ খাতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এসএমইতে পর্যাপ্ত ঋণ দিচ্ছে কিনা, তা নজরদারিও করবে সংস্থাটি।
দীর্ঘদিন ধরে নিজের কিছু করার ইচ্ছা তাহমিনা চৌধুরীর। তাই, সীমিত পুঁজি নিয়ে ২০১৮ সালে তাঁর স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলেও, ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ পাননি তিনি।
‘পিন্ধন বাংলাদেশ’-এর স্বত্বাধিকারী তাহমিনা চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংক বিভিন্ন জায়গা-জমি বন্ধকের জন্য কপি চাচ্ছে। সেটা কি দেওয়া সম্ভব? আর আমরা যদি বন্ধকের জন্য এই নথিগুলো দিতেই পারতাম, তাহলে তো আমাদের ব্যাংকের কাছে যেতে হতো না।’
ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে হয়রানির শিকার হন তাঁর মতো হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঋণ পান না তাঁরা। এমনকি উচ্চ সুদের কারণে বাধাগ্রস্ত হয় ব্যবসার সম্প্রসারণ।
একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘একটা প্রবাদ আছে, তেলওয়ালা মাথায় তেল দেয়। ব্যাংকও একই। আপনার মাথায় তেল থাকলে, ক্যাশ ফ্লো ভালো থাকলে আপনাকে তেল দেবে। তা ছাড়া আপনি লোন পাবেন না বা আপনাকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। আমরা ১৪ শতাংশ সুদে লোন নিচ্ছি। আমরা ব্যবসায় যে পরিমাণ লাভ করি, এটা দিয়ে ঋণ শোধও করতে পারছি না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, এ বছর জুন পর্যন্ত এসএমই খাতে দেওয়া হয়েছে মোট ব্যাংক ঋণের ১৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। যা গত বছর জুনে ছিল ১৮ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ এক বছরে এসএমইতে ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এসএমই ঋণ দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই যে উপযুক্ত বা যোগ্য গ্রাহক পাচ্ছি না বলে এসএমইতে ঋণ বিতরণ করতে পারছি না। ব্যাংকগুলোর নিজের থেকে যদি আর্জ (আগ্রহ/তাড়না) তৈরি না হয় যে তারা কর্পোরেট থেকে ফোকাসটা কিছুটা হলেও এসএমই খাতে নেবে, ততদিন পর্যন্ত এই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না।’
এসএমই ঋণের ১৫ শতাংশ যাতে নারী উদ্যোক্তারা পান, সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।