একাত্তরে অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ হয়েছিল, ২০২৫ এ এসেও থামেনি সে লড়াই। বৈষম্য দূর করতে নীতিগত সংস্কার কতটুকু হয়েছে, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। যদিও বিজয়ের ৫৪ বছরে শক্তিশালী অর্থনৈতিক যাত্রার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানবসম্পদের উন্নয়নেই মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি।
শুধু একটি ভূখণ্ডের জন্য নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে। পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশ।
গেল ৫৪ বছরে বেড়েছে অর্থনীতির আকার, মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি। রপ্তানি আয় এখন ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। রেমিট্যান্স আর রপ্তানি আয়ে ভর করে দেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলারে। তবে, বিজয়ের এত বছর পর এসেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আয় বৈষম্যে নাকাল দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। উন্নয়নের গালগল্পে পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্পকে সামনে আনা হলেও, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে স্বস্তি মেলেনি জনগণের।
২০২৪-এর জুলাই মাসে এসে আবারও শোষন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হয় ছাত্র- জনতাকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে অভ্যুদয় হয় এক নতুন বাংলাদেশের।
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বৈষম্যের চিত্র তো খুব কুৎসিত এবং সেটা বাড়ছে। গত এক বছরেও বেড়েছে। সুতরাং শুধু সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের কালক্ষেপান নয়, কালক্ষেপণ হলো ২৪ এর আন্দোলনের যে মূল চেতনা ছিল, যে ভিত্তি ছিল সেটাকেই ধীরগতি করা হয়েছে।’
উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করে রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলা গেলে, মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি।
বিএএমএ এর সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, যদি অর্থনৈতিক ন্যায় বিচার করতে পারেন, যদি আমলাতন্ত্রটা রাষ্ট্রের কল্যাণে হয় এবং রাজনৈতিক নেতারা যদি তাদের পলিটিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলো ঠিক করে, তাহলে অর্থনৈতিক ভিত্তিটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে যাবে।’
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই বিপ্লবের অঙ্গীকার ও নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিক বৈষম্য মুক্তির।