সার নিয়ে বিপাকে কৃষক

রবি শস্য আবাদের মৌসুমে সার নিয়ে বিপাকে কৃষক। সংকটের অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২ থেকে ৩শ টাকা বেশিতে সার কেনা লাগছে, বলছেন বিভিন্ন জেলার চাষিরা। পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় জমি প্রস্তুতে বিপাকে পড়ছেন তারা। এতে চলতি মৌসুমের আবাদ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা কৃষকদের।

পেঁয়াজ, রসুন, আলু, সরিষা, কালোজিরাসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদের সময় চলছে। এসময় প্রয়োজন হয় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার। তবে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় বিভিন্ন জেলায় বিপাকে চাষিরা। 

একাধিক কৃষক বলেন, সার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বেশি টাকা দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে।

জয়পুরহাট-ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে আলু রোপন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সরবরাহ কমের অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না কোন সার। কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

পাবনার কৃষকদের অভিযোগ, সার মজুত করে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

প্রতি বস্তা সারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২শ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত বেশি দেয়া লাগছে, বলছেন শরীয়তপুর ও মানিকগঞ্জের চাষিরা। জমি আবাদ করতে না পারায় ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা তাদের। একই সমস্যায় ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরার কৃষকরা। 

একজন কৃষক বলেন, সার দরকার ২০ কেজি, পাচ্ছি ৫ কেজি। এই সারে তো আর হবে না। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার ডিলারদের দাবি, বাজারে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের কোনো হাত নেই।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল আব্দুল্লাহ বলেন, ফসলের জন্য শীতে সার বেশি লাগে। এ কারণে চাহিদা বেশি। 

এদিকে নওগাঁয় কৃষি বিভাগের দাবি, বর্তমানে যে পরিমান সার মজুত আছে তাতে রবি শস্য ও আগামী ইরি-বোরা মৌসুমে সারের সংকট হবে না।

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) খলিরুর রহমান বলেন, আলু বা সরিষা চাষে যে সার দরকার, সেটা এখন আছে। ভবিষ্যতে সংকট হবে না। 

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম নেওয়া ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কৃষি বিভাগ ব্যবস্থার কথা জানালেও বাজারে কোনো সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। 

(প্রতিবেদনের তথ্য পাঠিয়েছেন জেলা প্রতিনিধিরা)