২০২৪ সালের ধারাবাহিকতায় বিদায়ী ২০২৫ সালেও দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে। রপ্তানির গতি শেষ কয়েক মাসে কমলেও সামগ্রিকভাবে গত বছর কিছুটা প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। স্থিতিশীল ছিলো ডলারের বিনিময় হারও। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় কমেছে বিনিয়োগ ও আমদানি।
বিদেশে কাজ করেন ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি। বরাবরের মত চলতি বছরও তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে বড় শক্তির যোগান দিয়েছে। বিদায়ী বছরের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় আসে ৩ হাজার ২৬২ কোটি ডলারের বেশি। অন্যদিকে ২০২৪ সালের পুরো বছরে প্রবাসীরা পাঠান প্রায় ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার।
এদিকে বিদায়ী বছরের প্রথমার্ধে দেশের রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা দেখা যায়। কিন্তু আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৪ মাস কমে রপ্তানি আয়। এসময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশের কম। তবে বছর জুড়ে আমদানির গতিও বাড়েনি। অক্টোবর-নভেম্বর টানা দুই মাস এলসি নিষ্পত্তি ও খোলার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে।
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রপ্তানি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও রিজার্ভের ওপর চাপ আসেনি কারণ আমদানিটাও দুর্বল। কাজেই বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাজারে নাই। কবে রেমিট্যান্স আসার কারণে রিজার্ভে এখন কোনো সংকট নাই।’
আইবিএফবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, ‘আগামীতে যে সরকার আসবে তাকে প্রথমে স্থিতিশীলতা দেওয়া চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে। নতুন কর্মসংস্থান আরও বেশি সৃষ্টি করতে হবে।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুত ছিল ২ হাজার ৬২১ কোটি ডলার। যা বিদায়ী বছর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। মুদ্রা বাজারে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবছর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কয়েক দফা ডলার কিনেছে। যা বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।