জ্বালানি সংকট: সরকারের হস্তক্ষেপ চায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা

তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের রেস্তোরাঁ খাত। এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ব্যবসায়িক ব্যয়। এতে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা, যার ফলে দ্রুত কমছে ক্রেতার সংখ্যা। 

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। চলমান সংকট নিরসনে তাঁরা দ্রুত সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারাদেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প চরম বিপাকে পড়েছে। চাহিদামতো এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার পাইপলাইনের গ্যাসের চাপও অত্যন্ত কম। ফলে অনেক রেস্তোরাঁয় বাধ্য হয়ে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে, যা খরচ ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এলপিজি সিন্ডিকেট’ ভাঙা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, ট্রেড ইউনিয়নের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাঁরা নিয়মিত ‘নীরব চাঁদাবাজির’ শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল বিনিয়োগের অসম প্রতিযোগিতা এই খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলছে।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘১২৫৩ টাকা সরকারি দরের গ্যাস আমাদের ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডিলারদের কাছে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে, আর ডিলাররা আমাদের পকেট কাটছে। সিন্ডিকেট যা ইচ্ছা তাই করছে, অথচ এ বিষয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।’

রেস্তোরাঁ খাতে বিভিন্ন সংস্থার হয়রানি বন্ধে এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুরও জোর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।