ব্যাংকগুলোর ঋণের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতি বা এক্সপেকটেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এখন থেকে কোনো ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই - অর্থাৎ ঋণের কিস্তি অনিয়মিত হয়ে বিভিন্ন ধাপে (সাবস্ট্যান্ডার্ড, ডাউটফুল বা ব্যাড/লস) যাওয়ার আগেই - সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে ওই ঋণের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে।
সহজ ভাষায়, খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ক্ষতি হলেও সেটার ধাক্কা কিছুটা কম হবে।
গতকাল রোববার এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত মান আইএফআরএস-৯ (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড-৯) অনুযায়ী, এই পদ্ধতি চালু হলে ব্যাংকের ঋণগুলোর শ্রেণিকরণ (লোন ক্লাসিফিকেশন) ও সেসব ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
ইসিএল পদ্ধতি চালু হলে কী হবে? কোনো ঋণের কিস্তি অনিয়মিত হয়ে পড়তে পারে কি না, হলে কোন পর্যায়ে যেতে পারে (সাবস্ট্যান্ডার্ড, ডাউটফুল নাকি ব্যাড/লস) – এ ব্যাপারে সম্ভাব্য ক্ষতির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংককে আগে থেকেই ওই ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতীত তথ্যের পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস (যেমন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি) বিবেচনায় নিয়ে ঋণের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।
বর্তমানে একটা ঋণের ক্ষেত্রে প্রভিশন রাখা হয় ‘ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পরে’র হিসাবে। অর্থাৎ কিস্তি অনিয়মিত হতে হতে একটা ঋণ সাবস্ট্যান্ডার্ড (৩ থেকে ৬ মাস কিস্তির টাকা ব্যাংক না পেলে), ডাউটফুল (৬ থেকে ৯ মাস) বা ব্যাড/লস (৯ মাসের বেশি) হয়ে পড়ার পর এর বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখা হয়। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে ঋণ খারাপ হওয়ার আগেই এর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রভিশন রাখতে হবে।
এই প্রভিশন রাখা হবে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা থেকে।
এই ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের আগে থেকেই সুরক্ষা থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন নিয়মে কোনো ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ার পর ব্যাংককে ক্ষতির পরিমাণের পুরোটা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার চাপ একসঙ্গে নিতে হবে না। এতে ব্যাংকের মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
জানা গেছে, ২০২০ সালে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বাংলাদেশ (এফআরসি) এ ধরনের মানদণ্ড বাস্তবায়নের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। এত দিন এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ছিল না। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলো।