শ্রমশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্য দেশের শর্তকে ভারত বা নেপাল বাংলাদেশের মতো এত পাত্তা দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, যেসব দেশ শ্রমিক পাঠায় তাদের শর্ত থাকতে পারে, কিন্তু যারা নেয় তাদের শর্ত থাকতে পারে না। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ও জীবিকার মাঝখানে বন্দি বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও দুর্ভোগ নিয়ে সেমিনার আয়োজন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সার্বিক ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির খরচ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও জনশক্তি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার জনশক্তি রপ্তানিতে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা থেকে বের হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘বাংলাদেশের উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান করতে হবে। রাশিয়ার ভাষা শিখিয়ে সে দেশসহ ১৫টি দেশের শ্রমবাজারে ঢুকতে হবে বাংলাদেশকে। জ্বালানি খাতে সেখানে কর্মসংস্থানে বিপুল সম্ভাবনা আছে।’
কম খরচে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে বিদেশে শ্রমিক পাঠানো নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে দাবি করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিকে শৃঙ্খলায় আনার ক্ষেত্রে গ্রেডিংয়ের কথা ভাবছে সরকার।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘শ্রমশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্য দেশের শর্তকে ভারত বা নেপাল বাংলাদেশের মতো এত পাত্তা দেয় না। শ্রমিক নিতে চাইলে আমরা শর্ত দিতে পারি, যারা নেবে তারা শর্ত দিতে পারে না। তাদের কোনো বিবেচনা থাকলে তা জানাতে পারে।’
শ্রমশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের জাল ছিন্ন করতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।